| বঙ্গাব্দ

আমিরাতে ইরানের ২ হাজার ড্রোন ও মিসাইল হামলা: দুবাই বিমানবন্দর ও ফুজাইরাহ বন্দরে আগুন | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 17-03-2026 ইং
  • 611899 বার পঠিত
আমিরাতে ইরানের ২ হাজার ড্রোন ও মিসাইল হামলা: দুবাই বিমানবন্দর ও ফুজাইরাহ বন্দরে আগুন | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: আমিরাতে ইরানের ২ হাজার ড্রোন ও মিসাইল হামলা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ২ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা: অচল দুবাই বিমানবন্দর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের রেশ এখন মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যিক কেন্দ্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর আছড়ে পড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে আমিরাতের দিকে প্রায় ২ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ, ২০২৬) দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার পর বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলের অন্যতম ব্যস্ত এই কেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

টার্গেট জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামো

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান মূলত সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড অর্থাৎ পরিবহন ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। সোমবার ভোরে দুবাই বিমানবন্দরের কাছে একটি জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাঙ্কে ড্রোন আঘাত হানলে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তার খাতিরে কর্তৃপক্ষ শত শত ফ্লাইট বাতিল ও ডাইভার্ট করতে বাধ্য হয়। একই দিনে বিশ্বের অন্যতম বড় তেল সংরক্ষণ কেন্দ্র ফুজাইরাহ বন্দরেও ড্রোন হামলায় আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে।

আবুধাবিতে প্রাণহানি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির উপকণ্ঠে আল-বাহিয়া এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়িতে রকেট আঘাত হানলে একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হন। শহরটির মিডিয়া অফিস এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দুবাইয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলেও হামলা চালানো হয়েছিল, যা আমিরাতের পর্যটন খাতে বড় ধরণের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

আমিরাতের ক্ষোভ ও কৌশলগত সমীকরণ

বিবিসির সংবাদদাতা আজাদেহ মশিরি সোমবার 'বিবিসি গ্লোবাল নিউজ পডকাস্টে' জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত মনে করছে তারা অন্যায়ভাবে এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। তার মতে, ইরান হয়তো মনে করছে এই চাপের ফলে আমিরাত সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করবে। কিন্তু বাস্তবে আমিরাতের কর্মকর্তারা ইরানের এই উস্কানিতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং তারা তাদের আকাশসীমা সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করেছে।

১৯৫০ থেকে ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার টানাপোড়েন

১৯৫০-এর দশকে যখন সংযুক্ত আরব আমিরাত ব্রিটিশ শাসনাধীন ছিল, তখন এই অঞ্চলের রাজনীতি ছিল কেবল তেল ও মুক্তা আহরণ কেন্দ্রিক। ১৯৭১ সালে আমিরাতের স্বাধীনতার পর থেকে তারা নিজেদের একটি নিরাপদ ও আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশের’ মতো সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ যখন স্থিতিশীলতা চাচ্ছে, তখন ২০২৬ সালের এই যুদ্ধ পরিস্থিতি পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক অন্ধকার অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। ১৯৫০ সালে যা ছিল স্রেফ ঔপনিবেশিক প্রভাবের লড়াই, ২০২৬ সালে তা রূপ নিয়েছে উন্নত প্রযুক্তি ও ড্রোন যুদ্ধের এক ভয়াবহ অধ্যায়ে।


সূত্র: ১. বিবিসি (BBC) গ্লোবাল নিউজ পডকাস্ট ও আজাদেহ মশিরির বিশেষ প্রতিবেদন (মার্চ ২০২৬)।

২. দুবাই ও আবুধাবি মিডিয়া অফিস ও এমিরেটস নিউজ এজেন্সি (WAM)।

৩. আল জাজিরা ইন্টারন্যাশনাল ও টাইমস অফ ইসরায়েল (লাইভ আপডেট)।

৪. জাতীয় আর্কাইভস: সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইতিহাস ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের বিবর্তন (১৯৫০-২০২৬)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency